কাহিনীর ঐ মুসাফির আজ থেকে সাতান্ন বছর আগেও এসেছিলেন আর তখন উসকানিদাতার উসকানিতে আমাদের রামদা এবং তলোয়ার ধারালো করার কাজে আমরা এতই ব্যস্ত ছিলাম যে, তার দিকে নজর দেওয়ার অবকাশ পাইনি।
সে যখন আমাদের কর্মকাণ্ড দেখে অবাক বিস্ময়ে আমাদের উদ্দেশ্য জানতে চাচ্ছিলো, -আমরা সগর্বে তাকে বোঝাতে চাচ্ছিলাম যে, ধর্মযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু, কোনোভাবেই তা যেন তাকে বোঝানোই যাচ্ছিলো না !
একজন মুসাফির হিসেবে তার পাওনা ছিলো আতিথেয়তা, -এর বেশি নয়, অথচ সে যেন উটকো উপদেষ্টা হ’য়ে বলতে চাচ্ছিলো যে, আমরা নিজেদেরই ধ্বংসকর্মে লিপ্ত হ’তে যাচ্ছি।
স্মরণ করুন, আমরা আড়ালে তাকে সসম্মানে প্রশংসিত আসনটিতে বসিয়ে আপ্যায়ন করতে কার্পণ্য করিনি, অথচ অজ্ঞ মুসাফির আমাদের ঐ ধর্মযুদ্ধকে কীভাবে ‘আত্মঘাতী কোন্দল’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছিলো ! এবং আমরা কোন্দলে কোন্দলে যেন ধ্বংস না-হই এমন সাবধানবাণী শোনাচ্ছিলো ! তবে, আমাদের ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত আমরা উভয়পক্ষই যথেষ্ট পরিমানে ক্ষতিগ্রস্ত হ’লেও কিন্তু আজও ধ্বংসপ্রাপ্ত হইনি ! বরং ঐ মুসাফির নিজেই শেষপর্যন্ত আমাদের মাঝে টিকতে পারেনি ;--আমরা যখন ভিন্নধর্মীকে আঘাত করছিলাম, প্রকাশ্যে তলোয়ার আর রামদার মাঝখানে প’ড়ে প’ড়ে বার বার ঐ মুসাফিরদেরই দেহত্যাগ হচ্ছিলো।
স্মরণ করুন,--আমরা আগেও বিভিন্ন স্থানে-কালে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন জাতধর্মের ধর্মগুরুদের নির্দেশে কীভাবে ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হয়ে আমাদের জন্য অনন্ত অসীম শান্তি এবং মুক্তির সনদ অর্জন করছিলাম এবং সকল সমকালে কীভাবে মুসাফিরকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করছিলাম এবং সে সরে যাবার পর তাকেই নিয়ে জনপদে জলসায়-সমাবেশে-বিদ্যাপীঠে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলাম এবং আগামীতেও সমান আচরণ প্রদর্শন করার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং নেবো !-স্মরণ করুন, -দেখবেন, কতখানি বিস্মৃতিধারী মেধার ধারক আমরা !-স্মরণে এলেই দেখবেন এবং সহজেই বুঝবেন যে, ঐ মুসাফির কোনো ভিন্ন সত্তা নয়।
রঙ্গপুর --০৩/০৯/২০০৪
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০০৯
দায়মুক্তি
বিচার বিভাগটি প্রতিনিধিত্বশীল দলের প্রভাবমুক্ত না-থাকার কারণে আমি চিহ্নিত অপরাধকর্মী হ’য়েও সাময়িক মুক্তি পাই। দলের প্রভাবের কল্যাণে সহজেই বার বার জামিনে মুক্তি পাই, কিন্তু বেকসুর খালাস পাই না। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনধারী হিসেবে যতদিন আমার জামিনদারের দলটি থাকে, আমি চেহারায়-পোশাকে মানুষের মতো সেজে জীবনটাকে মানুষের মতো উপভোগ করি; তবে, আমার জামিনদারের দলটি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে বাদীরা আমাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়, -আমাকে নরকের যন্ত্রণা ভুগতে হয়; আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের সহযোগী বাহিনীর নজরকে নজরানা দিয়ে দিয়ে ঢেকে রাখার জন্য যা-কিছু করি, -তা হচ্ছে, -একটা অপরাধকে ঢাকতে গিয়ে আর একটা অপরাধ করতে বাধ্য হই। আমি জানি যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে অর্থাৎ প্রভাব-নিরপেক্ষ থাকলে আমি আমার প্রথম অপরাধের শাস্তি পেয়েই মুক্তি পেতাম; অন্তত আমাকে আতঙ্কভরা পলাতক জীবন যাপন করতে হতো না কিংবা আমাকে আমার জামিনদারের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হতো না।
আমি জানি যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে, আমি জামিনে থাকাকালীন অবস্থায় আমার অপরাধের দায়ভার আমার জামিনদারকে বহন করতে হতো। নরকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তিকামী আমি চাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
জামিনে মুক্ত অবস্থায় জামিনদারের পক্ষে কাজ না-ক’রে আমার উপায় থাকে না। সম্ভবত আমার জামিনদার ভাবে যে, আমি সংশোধিত হ’লে তার মুখোশ খুলে দেবো, তাই আমি সংশোধিত হ’তে চাইলেই আমার অপরাধ-কর্মের সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আমারই জামিনদার আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। আমি তাকে বোঝাতেই পারি না যে, আমি কখনোই তার নোংরা রূপটা প্রকাশ করবার উদ্দেশ্যে সংশোধিত হ’তে চাই না, তাছাড়া আমি আমার নরক-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হবার জন্য জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত কুকুরটার মতো যেভাবে ছোটাছুটি করি, -সেখানে অন্যকে বিপদে ফেলার জন্য কৌশল খাটানোর চেষ্টা করবো এমন ভাবনা ভাবতে পারে কেবল উন্মত্ত নরাধমেরা।
আমি যাদের ক্ষতি করেছি, তারা হয়তো বা আমাকে ক্ষমা ক’রে ছেড়েও দিতে পারেন; আমি আর কখনো অপরাধ করবো না, -এব্যাপারে আমার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিপক্ষের আস্থা অর্জন ক’রে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইলে তাঁরা আমাকে ক্ষমা ক’রে দিতেও পারেন; আমি যাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতাম, এখন থেকে আমি পাহারাদার হিসেবে থাকবো, যাতে তাদের আর কোনো ক্ষতি না-হয়, -এমন প্রতিজ্ঞা নিয়ে যদি চলতে পারি তো আশা করা যায় ক্ষতিগ্রস্তরা আমাকে দয়া ক’রে কোনোদিন ক্ষমা ক’রে দিতে পারেন,
-এ বিশ্বাস কেবল আমার নয়, আমার মতো অনেকের। নরকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তিকামী অনেকের মতো আমিও চাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
আমি জানি, জনসাধারণ আমাদেরকে ক্ষমা করবেন, কিন্তু আমাদের আতঙ্কিত জামিনদারেরা আমাদেরকে জিম্মি হিসেবে বেঁধে রাখতে চাইবে। আর এমন পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য উদার জনগণকেই একমত হ’তে হবে, যারা আমাদের জামিনদারদেরকেও সাধারণ ক্ষমা এভাবেই ছুড়ে দেবেন যে, -বিগতকালীন কোনো দলীয় অপরাধকর্ম স্বাধীন বিচার বিভাগের আওতায় পড়বে না, -ক্ষমা, জনসাধারণ ক্ষমা করবে; -তবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পর যখন কোনো দলীয় অপরাধ ঘটবে, আর কোনো ক্ষমা নয়, -ঐ দলের নেতাকে বিচার বিভাগের মুখোমুখি হ’তেই হবে।
(দলীয় প্রভাবের কল্যাণে যারা দেশের বা সমন্বিত দশের সম্পদের অবৈধ মালিক বা ইজারাদার হয়েছে তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বাধা দেবে। আমি আশা করবো ওদের অবৈধ সম্পদগুলো যেন কেড়ে নিতে গিয়ে নষ্ট ক’রে ফেলা না-হয়। আপনারা ওদের যোগ্যতা আর দক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানেন। আরও জানেন যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন হ’লে ঐ সম্পত্তিগুলোই ওদের যন্ত্রণার কারণ হবে, --যেমন সকলেই জানি, একটা বানর মুক্তোর মালা পেলে কোথায় কীভাবে কাজে লাগাবে, এই জ্ঞানটুকু না-থাকার কারণে কোনো এক সময়ে বিরক্ত হ’য়ে মালাটা ছুড়ে ফেলে দেবে, ততক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকতেই হবে। ওটা যদি কেড়ে নিতে চান তো কাড়াকাড়িতে ছিঁড়ে যাবে, -মালাটা নষ্ট হ’য়ে যাবে। তবে, -আমার জামিনদারেরা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি জবরদখল ক’রে থাকলে সেই ব্যক্তিমালিক ঐ সম্পদ আদালতের মাধ্যমে ফেরত নিতেও পারেন, -করুণা ক’রে দাবি ছেড়েও দিতে পারেন, -এটা তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার এবং এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি-অধিকার স্বাধীন বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবেই সংরক্ষণ ক’রে যেতে বাধ্য।)
আমি চাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, -যেখানে কোনো প্রভাবক কোনোভাবেই প্রভাব খাটাতে পারবে না।
সংশোধনকামী এই আমি এতটুকু বুঝতে পেরেছি যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন না-হ’লে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জনগণের উপরেই বর্তাবে। আমার মতো অনেকেই যারা নরকের জ্বালায় জ্বলছি, আমার অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঐ যন্ত্রণার আগুনে সভ্য-সাধারণেরা জ্বললে, -আমার মতো অপরাধকর্মীরা দায়ী নয়। বরং আমি দাবি করতে পারি যে, দায়ী ঐ ক্ষণস্থায়ী-প্রতিনিধি নির্বাচনকারী সকল স্বাধীন সাধারণ জনগণ, যারা ক্ষমাশীল হ’য়ে চাইলে, তবেই আমাদের জামিনদারদের প্রভাব থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীনতা পেতে পারে।
###############
(ফারাও শিকদার কারুণের রোজনামচা থেকে সযত্নে সরানো... ... ...)
নিশিকুটুম্ব : হাসু কবি-রাজ রঙ্গপুর -- ২৫/০৮/২০০৪
আমি জানি যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে, আমি জামিনে থাকাকালীন অবস্থায় আমার অপরাধের দায়ভার আমার জামিনদারকে বহন করতে হতো। নরকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তিকামী আমি চাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
জামিনে মুক্ত অবস্থায় জামিনদারের পক্ষে কাজ না-ক’রে আমার উপায় থাকে না। সম্ভবত আমার জামিনদার ভাবে যে, আমি সংশোধিত হ’লে তার মুখোশ খুলে দেবো, তাই আমি সংশোধিত হ’তে চাইলেই আমার অপরাধ-কর্মের সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আমারই জামিনদার আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। আমি তাকে বোঝাতেই পারি না যে, আমি কখনোই তার নোংরা রূপটা প্রকাশ করবার উদ্দেশ্যে সংশোধিত হ’তে চাই না, তাছাড়া আমি আমার নরক-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হবার জন্য জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত কুকুরটার মতো যেভাবে ছোটাছুটি করি, -সেখানে অন্যকে বিপদে ফেলার জন্য কৌশল খাটানোর চেষ্টা করবো এমন ভাবনা ভাবতে পারে কেবল উন্মত্ত নরাধমেরা।
আমি যাদের ক্ষতি করেছি, তারা হয়তো বা আমাকে ক্ষমা ক’রে ছেড়েও দিতে পারেন; আমি আর কখনো অপরাধ করবো না, -এব্যাপারে আমার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিপক্ষের আস্থা অর্জন ক’রে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইলে তাঁরা আমাকে ক্ষমা ক’রে দিতেও পারেন; আমি যাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতাম, এখন থেকে আমি পাহারাদার হিসেবে থাকবো, যাতে তাদের আর কোনো ক্ষতি না-হয়, -এমন প্রতিজ্ঞা নিয়ে যদি চলতে পারি তো আশা করা যায় ক্ষতিগ্রস্তরা আমাকে দয়া ক’রে কোনোদিন ক্ষমা ক’রে দিতে পারেন,
-এ বিশ্বাস কেবল আমার নয়, আমার মতো অনেকের। নরকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তিকামী অনেকের মতো আমিও চাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
আমি জানি, জনসাধারণ আমাদেরকে ক্ষমা করবেন, কিন্তু আমাদের আতঙ্কিত জামিনদারেরা আমাদেরকে জিম্মি হিসেবে বেঁধে রাখতে চাইবে। আর এমন পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য উদার জনগণকেই একমত হ’তে হবে, যারা আমাদের জামিনদারদেরকেও সাধারণ ক্ষমা এভাবেই ছুড়ে দেবেন যে, -বিগতকালীন কোনো দলীয় অপরাধকর্ম স্বাধীন বিচার বিভাগের আওতায় পড়বে না, -ক্ষমা, জনসাধারণ ক্ষমা করবে; -তবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পর যখন কোনো দলীয় অপরাধ ঘটবে, আর কোনো ক্ষমা নয়, -ঐ দলের নেতাকে বিচার বিভাগের মুখোমুখি হ’তেই হবে।
(দলীয় প্রভাবের কল্যাণে যারা দেশের বা সমন্বিত দশের সম্পদের অবৈধ মালিক বা ইজারাদার হয়েছে তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বাধা দেবে। আমি আশা করবো ওদের অবৈধ সম্পদগুলো যেন কেড়ে নিতে গিয়ে নষ্ট ক’রে ফেলা না-হয়। আপনারা ওদের যোগ্যতা আর দক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানেন। আরও জানেন যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন হ’লে ঐ সম্পত্তিগুলোই ওদের যন্ত্রণার কারণ হবে, --যেমন সকলেই জানি, একটা বানর মুক্তোর মালা পেলে কোথায় কীভাবে কাজে লাগাবে, এই জ্ঞানটুকু না-থাকার কারণে কোনো এক সময়ে বিরক্ত হ’য়ে মালাটা ছুড়ে ফেলে দেবে, ততক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকতেই হবে। ওটা যদি কেড়ে নিতে চান তো কাড়াকাড়িতে ছিঁড়ে যাবে, -মালাটা নষ্ট হ’য়ে যাবে। তবে, -আমার জামিনদারেরা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি জবরদখল ক’রে থাকলে সেই ব্যক্তিমালিক ঐ সম্পদ আদালতের মাধ্যমে ফেরত নিতেও পারেন, -করুণা ক’রে দাবি ছেড়েও দিতে পারেন, -এটা তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার এবং এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি-অধিকার স্বাধীন বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবেই সংরক্ষণ ক’রে যেতে বাধ্য।)
আমি চাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, -যেখানে কোনো প্রভাবক কোনোভাবেই প্রভাব খাটাতে পারবে না।
সংশোধনকামী এই আমি এতটুকু বুঝতে পেরেছি যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন না-হ’লে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জনগণের উপরেই বর্তাবে। আমার মতো অনেকেই যারা নরকের জ্বালায় জ্বলছি, আমার অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঐ যন্ত্রণার আগুনে সভ্য-সাধারণেরা জ্বললে, -আমার মতো অপরাধকর্মীরা দায়ী নয়। বরং আমি দাবি করতে পারি যে, দায়ী ঐ ক্ষণস্থায়ী-প্রতিনিধি নির্বাচনকারী সকল স্বাধীন সাধারণ জনগণ, যারা ক্ষমাশীল হ’য়ে চাইলে, তবেই আমাদের জামিনদারদের প্রভাব থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীনতা পেতে পারে।
###############
(ফারাও শিকদার কারুণের রোজনামচা থেকে সযত্নে সরানো... ... ...)
নিশিকুটুম্ব : হাসু কবি-রাজ রঙ্গপুর -- ২৫/০৮/২০০৪
অপসরণ অনুচ্ছেদ
জেনে বুঝেই আমি গণসাধারণের সম্পত্তির ওপর আমার ব্যক্তিগত স্থাপনাগুলো গ’ড়ে তুলেছিলাম। সরকারি জমির ওপর দখলদারী খাটানোর জন্যে বিনিময়ে জনরাজস্ব ভাণ্ডারে কিছু দেইনি কিম্বা গণসরকারের কাছ থেকে ঐ জায়গাটুকু কিনেও নেইনি, বরং প্রকাশ্য গোপনে জনগণের কতক প্রতিনিধিকে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু বেতনভোগী চাকরকে ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট রেখে রেখে আমার ব্যক্তিগত ব্যবসাকর্মগুলো চালিয়ে গেছি।
আজ যখন আমি গণসাধারণের জায়গা খালি ক’রে দিতে বাধ্য হচ্ছি, আমার ব্যক্তিগত ক্ষতিতে জনগণ আনন্দ পাচ্ছে দেখে মোটেও অবাক হইনি।
কিন্তু, আমার অবৈধ নড়বড়ে অস্থায়ী ডেরা-ডালা গুড়িয়ে দিলেই যে বিধানবৈধ কোনো ভালো কাজ করা হলো কিম্বা নোংরা পরিবেশে স্বস্তি ফিরে এলো এমন হাস্যকর ধারণা নিয়ে উন্মত্ত থাকলে বর্তমান জনগোষ্ঠীকেই প্রজন্মান্তরে আগামীতে যন্ত্রণার ঘানি টানতে হবে।
অন্যের ব্যাপারে জানি না, তবে নিজের ক্ষেত্রে বলতে পারি যে, আমাকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া যায় এমন কোনো বৈধ কাজ থাকলে অর্থের বিনিময়ে তা ক’রে দিতে আমার কোনো মানহানী ঘটে না, আগেও ঘটেনি।
সকল শ্রমই সমান মর্যাদার -এই জ্ঞান আমি জীবন থেকে পেয়েছি। আমার কিশোরকালে বাম পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখের কোণা যখন দেবে গিয়ে পেকে গ্যালো, দাক্তার পা ধরেছিলো, -আমার পা ধ’রে কেটে চিড়ে পুঁজ বের ক’রে ধুয়ে মুছে সাফ ক’রে দিয়েছিলো। পেশাজীবী ঐ চিকিৎসাকর্মীর মর্যাদা মোটেও কমেনি। আমি আজও তাকে শ্রদ্ধা করি। শুধু আমার পরিবার নয়, অনেকেই ঐ দাক্তারকে শ্রদ্ধা করে। বাস্তব জ্ঞান পাওয়ার পর থেকে কোনো বৈধ কাজকেই আমি আর তুচ্ছ মনে করতে পারি না।
ভিক্ষাবৃত্তি আমার কাছে ঘৃণ্য। চোরের চেয়েও ভিক্ষুক নোংরা। আমি জানি, ভিক্ষাদাতার রক্ষিতা হওয়াকেই বরং যেকোনো স্তরের ভিখারির স্ত্রী সৌভাগ্য মনে করে। আমি ভিখারি হ’তে চাই না। চাই না করুণা কিম্বা দান পেতে, আমি চাই প্রতিদান সসম্মানে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার বিনিময়ে বৈধভাবে কিছু করার সুযোগ না-পেয়ে কেউ অন্যকিছু করলে তখন আবারও জনগণ সেটাকে অবৈধ বলবে কি-না তা নিয়ে আমার পোষ্যরা হয়তোবা এখন আমাকে ভেবে দেখারও সময়টুকু দেবে না। তবে রপ্তানিনীতিটা যদি সঠিক থাকতো, এদেশের মাটিতে এমন অনেক কিছুই ফলে, বিশ্ববাজারে যথেষ্ট চাহিদাও আছে, আমাকে সসম্মানে ন্যায্য মজুরী দিয়ে উৎপাদন কাজে ডেকে ডেকে নেওয়া হতো।
অপসারণের আগে বিকল্প কর্মসংস্থানের চিন্তা এজন্যেই প্রগতির ক্ষেত্রে জরুরি যে, -রাস্তায় কোনো নষ্ট সেতু বা পুল অপসারণ কিম্বা মেরামতের আগেই ঐ নষ্টের পাশ দিয়ে একটা সাময়িক বাঁকা বিকল্প পথ বানানোর প্রচলন যারা করেছিলো , তাদেরকে আজও উন্মাদের তালিকাভুক্ত করা হয় না।
ব্যবসায়ী বুদ্ধি আমার জন্য সহায়ক হ’লে, তেমন সফলতা পাই বা না-পাই, আজ আমার অন্তত এমন দশা হতো না। আমাকে যেখান থেকে স’রে যেতে হচ্ছে,-কেউ যদি এভাবে বলে তো বেশি বলা হবে না,-জীবিকার জন্য বৈধ কর্মসংস্থান থাকলে, এমন দূষিত নর্দমার পাশে সীসাবিষাক্ত বাতাসে স্বেচ্ছায় আসতাম কি-না, যেখানে জীবিকার জন্য এর-ঠেলা-ওর-গুতা-তার-প্যাদানি সহ্য করতে হয়, -প্রস্রাব করতেও আসতাম কি-না যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
আমার পক্ষে আত্মহত্যা করা সম্ভব নয়। কিছু অভিজাত-ভিখারি সৃষ্টির সহায়ক ছিলো আমার পূর্বসুরীরা। এখানে তারা তাদের প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডের হিসাব না-নিয়ে বরং ওদেরকে নিজেদের তুচ্ছ ব্যক্তিগত কোন্দলের সালিশি-সভার কাজে ব্যস্ত রেখেছিলো। আমার পূর্বপুরুষ তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যের হিসেবটা সঠিকভাবে আদায় ক’রে নিলে তাদের আবাস-ভূখণ্ডটা ত্রাণনির্ভর হতো না, প্রত্যেকে তার যোগ্য কাজটা পেতো এবং আমার আজকের অপদস্থ দশাও কাউকে উন্মত্তের আনন্দ দিতো না।
পূর্বসুরীর ভুলের খেসারত না-দিয়ে পালিয়ে যাওয়া খুব একটা কঠিন কাজ ছিলো না আমার জন্য। আত্মহত্যা মহাপাপ না-হয়ে যদি মহাপূণ্য হতো, তবুও তা অর্জন করা এখন আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার অবস্থানে থেকে সামান্য একটা ক্ষুদ্র পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিলেও যে এমন মহাফাঁদে পড়তে হয়, আগে জানলে সংসারে না-ঢুকে সন্ন্যাস-সাধনায় সাধ্যমতো চেষ্টা চালাতাম।
আত্মহত্যার পক্ষে আমার জোরালো অজুহাত আছে। পূর্বপুরুষের ভুলের তুলনায় আজ আমার আত্মহত্যায় পাপের পরিমাণ খুবই নগণ্য, কিন্তু দায়িত্ব এড়ানোর অপরাধ থেকে মুক্তি পাবার যুক্তি এখনো জোগাড় করতে পারিনি। পরিবারকে ফাঁকি দিয়ে আত্মহত্যা করা যাচ্ছে না, তবে, অন্য কেউ আমাকে হত্যা ক’রে যদি আমার দায়মুক্তির পথ খুলে দেয় তো সেটা হবে ভিন্ন ঘটনা।
যাদের ভরণ-পোষণ আমার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল, আমার নির্দেশ মানতে তারা বাধ্য; আমার বিশ্বাস আমি বললে তারা শুনবে; আমি সন্তানদেরকে বললে তারা অন্য যেকোনোজনকে বাবা হিসেবে মেনে নেবে। যাকে তারা পিতা বলে ডাকবে, সে যেন তাদেরকে নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের জন্য ব্যয় করে; সে যেন তার বৈধ উপার্জন থেকে তাদের ভরণ-পোষণের দায়ভার বহন করে। - বিধানের এ প্রস্তাবটা গ্রহণ করা হ’লে অবৈধ স্থাপনার উপার্জনের যন্ত্রণা থেকে জনগণ মুক্তি পাবে এবং হয়তোবা সেই সাথে মহান পিতৃত্ব অর্জন করতে আগ্রহী কেউ এগিয়ে এসে বোঝা টেনে টেনে যদি এমন আরো অনেক উদ্বাস্তু সন্তানের একটা সমষ্টিকে ভিন্ন কোনো সভ্য জাতিরূপে প্রকাশিত হ’তে সাহায্য করে তো, আগামীতে ঐ সচেতন জাতিটা তাকে জাতির পিতা হিসেবে গণ্য করতে পেরে নিজেই ধন্য হবে।
রঙ্গপুর-২৭/০১/০৭ ইং
[ উদ্বাস্তু হারাটিয়া কবিরাজের রোজনামচা থেকে খসে পড়া পাতাটি প্রগতির হাওয়ায় ভাসে ]
আজ যখন আমি গণসাধারণের জায়গা খালি ক’রে দিতে বাধ্য হচ্ছি, আমার ব্যক্তিগত ক্ষতিতে জনগণ আনন্দ পাচ্ছে দেখে মোটেও অবাক হইনি।
কিন্তু, আমার অবৈধ নড়বড়ে অস্থায়ী ডেরা-ডালা গুড়িয়ে দিলেই যে বিধানবৈধ কোনো ভালো কাজ করা হলো কিম্বা নোংরা পরিবেশে স্বস্তি ফিরে এলো এমন হাস্যকর ধারণা নিয়ে উন্মত্ত থাকলে বর্তমান জনগোষ্ঠীকেই প্রজন্মান্তরে আগামীতে যন্ত্রণার ঘানি টানতে হবে।
অন্যের ব্যাপারে জানি না, তবে নিজের ক্ষেত্রে বলতে পারি যে, আমাকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া যায় এমন কোনো বৈধ কাজ থাকলে অর্থের বিনিময়ে তা ক’রে দিতে আমার কোনো মানহানী ঘটে না, আগেও ঘটেনি।
সকল শ্রমই সমান মর্যাদার -এই জ্ঞান আমি জীবন থেকে পেয়েছি। আমার কিশোরকালে বাম পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখের কোণা যখন দেবে গিয়ে পেকে গ্যালো, দাক্তার পা ধরেছিলো, -আমার পা ধ’রে কেটে চিড়ে পুঁজ বের ক’রে ধুয়ে মুছে সাফ ক’রে দিয়েছিলো। পেশাজীবী ঐ চিকিৎসাকর্মীর মর্যাদা মোটেও কমেনি। আমি আজও তাকে শ্রদ্ধা করি। শুধু আমার পরিবার নয়, অনেকেই ঐ দাক্তারকে শ্রদ্ধা করে। বাস্তব জ্ঞান পাওয়ার পর থেকে কোনো বৈধ কাজকেই আমি আর তুচ্ছ মনে করতে পারি না।
ভিক্ষাবৃত্তি আমার কাছে ঘৃণ্য। চোরের চেয়েও ভিক্ষুক নোংরা। আমি জানি, ভিক্ষাদাতার রক্ষিতা হওয়াকেই বরং যেকোনো স্তরের ভিখারির স্ত্রী সৌভাগ্য মনে করে। আমি ভিখারি হ’তে চাই না। চাই না করুণা কিম্বা দান পেতে, আমি চাই প্রতিদান সসম্মানে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার বিনিময়ে বৈধভাবে কিছু করার সুযোগ না-পেয়ে কেউ অন্যকিছু করলে তখন আবারও জনগণ সেটাকে অবৈধ বলবে কি-না তা নিয়ে আমার পোষ্যরা হয়তোবা এখন আমাকে ভেবে দেখারও সময়টুকু দেবে না। তবে রপ্তানিনীতিটা যদি সঠিক থাকতো, এদেশের মাটিতে এমন অনেক কিছুই ফলে, বিশ্ববাজারে যথেষ্ট চাহিদাও আছে, আমাকে সসম্মানে ন্যায্য মজুরী দিয়ে উৎপাদন কাজে ডেকে ডেকে নেওয়া হতো।
অপসারণের আগে বিকল্প কর্মসংস্থানের চিন্তা এজন্যেই প্রগতির ক্ষেত্রে জরুরি যে, -রাস্তায় কোনো নষ্ট সেতু বা পুল অপসারণ কিম্বা মেরামতের আগেই ঐ নষ্টের পাশ দিয়ে একটা সাময়িক বাঁকা বিকল্প পথ বানানোর প্রচলন যারা করেছিলো , তাদেরকে আজও উন্মাদের তালিকাভুক্ত করা হয় না।
ব্যবসায়ী বুদ্ধি আমার জন্য সহায়ক হ’লে, তেমন সফলতা পাই বা না-পাই, আজ আমার অন্তত এমন দশা হতো না। আমাকে যেখান থেকে স’রে যেতে হচ্ছে,-কেউ যদি এভাবে বলে তো বেশি বলা হবে না,-জীবিকার জন্য বৈধ কর্মসংস্থান থাকলে, এমন দূষিত নর্দমার পাশে সীসাবিষাক্ত বাতাসে স্বেচ্ছায় আসতাম কি-না, যেখানে জীবিকার জন্য এর-ঠেলা-ওর-গুতা-তার-প্যাদানি সহ্য করতে হয়, -প্রস্রাব করতেও আসতাম কি-না যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
আমার পক্ষে আত্মহত্যা করা সম্ভব নয়। কিছু অভিজাত-ভিখারি সৃষ্টির সহায়ক ছিলো আমার পূর্বসুরীরা। এখানে তারা তাদের প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডের হিসাব না-নিয়ে বরং ওদেরকে নিজেদের তুচ্ছ ব্যক্তিগত কোন্দলের সালিশি-সভার কাজে ব্যস্ত রেখেছিলো। আমার পূর্বপুরুষ তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যের হিসেবটা সঠিকভাবে আদায় ক’রে নিলে তাদের আবাস-ভূখণ্ডটা ত্রাণনির্ভর হতো না, প্রত্যেকে তার যোগ্য কাজটা পেতো এবং আমার আজকের অপদস্থ দশাও কাউকে উন্মত্তের আনন্দ দিতো না।
পূর্বসুরীর ভুলের খেসারত না-দিয়ে পালিয়ে যাওয়া খুব একটা কঠিন কাজ ছিলো না আমার জন্য। আত্মহত্যা মহাপাপ না-হয়ে যদি মহাপূণ্য হতো, তবুও তা অর্জন করা এখন আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার অবস্থানে থেকে সামান্য একটা ক্ষুদ্র পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিলেও যে এমন মহাফাঁদে পড়তে হয়, আগে জানলে সংসারে না-ঢুকে সন্ন্যাস-সাধনায় সাধ্যমতো চেষ্টা চালাতাম।
আত্মহত্যার পক্ষে আমার জোরালো অজুহাত আছে। পূর্বপুরুষের ভুলের তুলনায় আজ আমার আত্মহত্যায় পাপের পরিমাণ খুবই নগণ্য, কিন্তু দায়িত্ব এড়ানোর অপরাধ থেকে মুক্তি পাবার যুক্তি এখনো জোগাড় করতে পারিনি। পরিবারকে ফাঁকি দিয়ে আত্মহত্যা করা যাচ্ছে না, তবে, অন্য কেউ আমাকে হত্যা ক’রে যদি আমার দায়মুক্তির পথ খুলে দেয় তো সেটা হবে ভিন্ন ঘটনা।
যাদের ভরণ-পোষণ আমার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল, আমার নির্দেশ মানতে তারা বাধ্য; আমার বিশ্বাস আমি বললে তারা শুনবে; আমি সন্তানদেরকে বললে তারা অন্য যেকোনোজনকে বাবা হিসেবে মেনে নেবে। যাকে তারা পিতা বলে ডাকবে, সে যেন তাদেরকে নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের জন্য ব্যয় করে; সে যেন তার বৈধ উপার্জন থেকে তাদের ভরণ-পোষণের দায়ভার বহন করে। - বিধানের এ প্রস্তাবটা গ্রহণ করা হ’লে অবৈধ স্থাপনার উপার্জনের যন্ত্রণা থেকে জনগণ মুক্তি পাবে এবং হয়তোবা সেই সাথে মহান পিতৃত্ব অর্জন করতে আগ্রহী কেউ এগিয়ে এসে বোঝা টেনে টেনে যদি এমন আরো অনেক উদ্বাস্তু সন্তানের একটা সমষ্টিকে ভিন্ন কোনো সভ্য জাতিরূপে প্রকাশিত হ’তে সাহায্য করে তো, আগামীতে ঐ সচেতন জাতিটা তাকে জাতির পিতা হিসেবে গণ্য করতে পেরে নিজেই ধন্য হবে।
রঙ্গপুর-২৭/০১/০৭ ইং
[ উদ্বাস্তু হারাটিয়া কবিরাজের রোজনামচা থেকে খসে পড়া পাতাটি প্রগতির হাওয়ায় ভাসে ]
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)