শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০০৯

মুসাফিরনামা

কাহিনীর ঐ মুসাফির আজ থেকে সাতান্ন বছর আগেও এসেছিলেন আর তখন উসকানিদাতার উসকানিতে আমাদের রামদা  এবং তলোয়ার  ধারালো করার কাজে আমরা এতই ব্যস্ত ছিলাম যে, তার দিকে নজর দেওয়ার অবকাশ পাইনি।
সে যখন আমাদের কর্মকাণ্ড দেখে অবাক বিস্ময়ে আমাদের উদ্দেশ্য জানতে চাচ্ছিলো, -আমরা সগর্বে তাকে বোঝাতে চাচ্ছিলাম যে, ধর্মযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু, কোনোভাবেই তা যেন তাকে বোঝানোই যাচ্ছিলো না !
একজন মুসাফির হিসেবে তার পাওনা ছিলো আতিথেয়তা, -এর বেশি নয়, অথচ সে যেন উটকো উপদেষ্টা হ’য়ে বলতে চাচ্ছিলো যে, আমরা নিজেদেরই ধ্বংসকর্মে লিপ্ত হ’তে যাচ্ছি।
স্মরণ করুন, আমরা আড়ালে তাকে সসম্মানে প্রশংসিত আসনটিতে বসিয়ে আপ্যায়ন করতে কার্পণ্য করিনি, অথচ অজ্ঞ মুসাফির আমাদের ঐ ধর্মযুদ্ধকে কীভাবে ‘আত্মঘাতী কোন্দল’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছিলো ! এবং আমরা কোন্দলে কোন্দলে যেন ধ্বংস না-হই এমন সাবধানবাণী শোনাচ্ছিলো ! তবে, আমাদের ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত আমরা উভয়পক্ষই যথেষ্ট পরিমানে ক্ষতিগ্রস্ত হ’লেও কিন্তু আজও ধ্বংসপ্রাপ্ত হইনি ! বরং ঐ মুসাফির নিজেই শেষপর্যন্ত আমাদের মাঝে টিকতে পারেনি ;--আমরা যখন ভিন্নধর্মীকে আঘাত করছিলাম, প্রকাশ্যে তলোয়ার আর রামদার মাঝখানে প’ড়ে প’ড়ে বার বার ঐ মুসাফিরদেরই দেহত্যাগ হচ্ছিলো।
স্মরণ করুন,--আমরা আগেও বিভিন্ন স্থানে-কালে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন জাতধর্মের ধর্মগুরুদের নির্দেশে কীভাবে ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হয়ে আমাদের জন্য অনন্ত অসীম শান্তি এবং মুক্তির সনদ অর্জন করছিলাম এবং সকল সমকালে কীভাবে মুসাফিরকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করছিলাম এবং সে সরে যাবার পর তাকেই নিয়ে জনপদে জলসায়-সমাবেশে-বিদ্যাপীঠে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলাম এবং আগামীতেও সমান আচরণ প্রদর্শন করার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং নেবো !-স্মরণ করুন, -দেখবেন, কতখানি বিস্মৃতিধারী মেধার ধারক আমরা !-স্মরণে এলেই দেখবেন এবং সহজেই বুঝবেন যে, ঐ মুসাফির কোনো ভিন্ন সত্তা নয়।

রঙ্গপুর  --০৩/০৯/২০০৪       

1 টি মন্তব্য:

  1. হ্যাঁ আমরা এখনো ধর্মগুরুদের নির্দেশে ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত ও জাতি ধ্বংস করতেছি

    উত্তরমুছুন